নিরাপদ আজ, সুরক্ষিত হোক আগামীকাল: সাইবার সচেতন হোন : আইএসসি২ ঢাকা চ্যাপ্টার

১৯ অক্টোবর, ২০২৩ ২০:৫২  

বিশ্ব সাইবার নিরাপত্তা মাস উদযাপনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে “সুরক্ষিত হোক আগামীকাল: সাইবার সচেতন হোন : ” স্লোগানে বাংলাদেশের ২২ জন সিআইএসএসপি সনদধারী সহ খাত সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ১৮ অক্টোবর ক্যাফে রিও গুলশানে বিশেষ সেমিনার করেছে সাইবার নিরাপত্তা পেশাদারদের বৈশ্বিক সংগঠন আইএসসি২ ঢাকা চ্যাপ্টার। সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন সিআইএসএসপি জি এম ফারুক।

“নিরাপত্তায় ৩৬০ ভিউ, সাইবার হুমকি, প্রকার ও প্রবণতা অনুধাবন” বিষয়ে বক্তব্যে বিভিন্ন উৎস থেকে ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা অর্জনের ওপর আলোকপাত করেন তিনি। ফারুক বলেন, এতে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ এবং বাইরের তথ্য, সেইসাথে প্রযুক্তিগত এবং অ-প্রযুক্তিগত ডেটা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর সুরক্ষার ক্ষেত্রে ৩৬০ ডিগ্রি দৃষ্টিভঙ্গি থাকা সংস্থাগুলিকে সুরক্ষা ঝুঁকিগুলিকে আরও ভালভাবে সনাক্ত করতে এবং মোকাবেলা করতে সহায়তা করে৷

সাইবার নিরাপত্তা একটি সংস্কৃতি এবং চলমান কার্যক্রম উল্লেখ করেন তিনি আরো বলেন, সাইবার নিরাপত্তা শুধুমাত্র আইটি পেশাদার বা প্রযুক্তি-বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের দায়িত্ব নয়; এটি একটি সমন্বিত দায়িত্ব। আমরা যে ডিজিটাল বিশ্বে বাস করি তা সুরক্ষিত করতে দাদা-দাদি থেকে শুরু করে স্কুলের বাচ্চা, ছোট ব্যবসার মালিক থেকে কর্পোরেট নেতাদের প্রত্যেকেরই ভূমিকা রয়েছে।

বক্তব্য রাখছেন জিএম ফারুক

সংগঠনের সভাপতি মশিউল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক এর সিআইএসও মোঃ ইসহাক মিয়া। তিনি সুরক্ষিত থাকতে আগাম রক্ষাকবচ তৈরি সহ নেটওয়ার্কের ওপর ২৪ ঘণ্টা বিরতিহীন নজরদারি রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক গাইডলাইনে সর্বশেষ সার্টিফিকেশনকে গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদিও আমাদের আরও ব্যবহারিক হতে হবে কিন্তু সার্টিফিকেশন আমাদের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াবে। টেকসই পরিকল্পনার ওপর আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে আইএসসি২ ঢাকা চ্যাপ্টার সভাপতি মশিউল ইসলাম জানান ২০১১ সালে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ২০২০ সালে তারা অনুমোদন পেয়েছেন। এখন ঢাকা চ্যাপ্টারকে ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে আরো বেশি সদস্য বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইএসসি২ ঢাকা চ্যাপ্টার সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান।

আন্তঃবন্ধনের মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অটুট রাখতে দক্ষতা ও কর্মশক্তির ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সাইবার জগতে নিজেদের প্রভাব, বৈচিত্র্য এবং প্রাণশক্তিকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে সংগঠনটি। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে সংগঠনটিতে বিভিন্ন চ্যাপ্টারের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছের ৫ লক্ষাধিক পেশাদার।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে শুরু করার পর থেকে নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা মাস পালন করে আসছে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ার্নেস ফাউন্ডেশন। ওই বছর ‘সাইবার নিরাপত্তা : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার দিয়ে এই সচেতনতা কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর এ বছর মাসটি পালনে কর্মসূচি দিয়েছেন প্রায় ডজন খানেক সংগঠন। তবে ২০১৮ সাল থেকে সিসিএ ফাউন্ডেশন নিয়মিত বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা বাংলাদেশের জন্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।